Featured
- Get link
- X
- Other Apps
পাহাড়ের রানী ও বিষ্ণুপথের যুদ্ধ: প্রাচীন বাংলার এক অজানা বীরাঙ্গনার কাহিনি
পাহাড়ের রানী ও বিষ্ণুপথের যুদ্ধ”
এটি একটি রোমাঞ্চকর, যুদ্ধ ও বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রাচীন বাংলার পার্বত্য ইতিহাসনির্ভর কাহিনি।
এখানে আছে এক সাহসিনী রানী, পাহাড়ি রাজ্য, বাঙালি-তিব্বতী সংঘর্ষ, এবং এক “অদৃশ্য পথ” যেটা যুদ্ধের ভাগ্য নির্ধারণ করেছিল।
🛡️ পাহাড়ের রানী ও বিষ্ণুপথের যুদ্ধ
(এক নারী শাসকের বিচক্ষণতা ও এক অদৃশ্য রাস্তার ইতিহাস)
🪶 ভূমিকা: পাহাড় শুধু নির্জন নয়, অনেক ইতিহাস চাপা থাকে এখানে
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে আমরা নদীভিত্তিক রাজ্য দেখি — গৌড়, বিক্রমপুর, নালন্দা।
কিন্তু পাহাড় ছিল নিজের মতো গোপন, আলাদা।
সেই পাহাড়ে জন্ম নিয়েছিল এক শক্তিশালী রাজ্য — বিষ্ণুগড়।
এই রাজ্যের শাসক ছিলেন একজন নারী —
যার নাম ছিল রানী রুদ্রমালা।
তাঁর শাসনকালেই ঘটে বিষ্ণুপথের যুদ্ধ —
যেখানে এক অদৃশ্য রাস্তা আর এক মেধাবী নারীর সাহসে রক্ষা পায় রাজ্য।
অধ্যায় ১: বিষ্ণুগড় — এক অজানা রাজ্য
চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে গড়ে উঠেছিল বিষ্ণুগড়।
এটি ছিল সুশৃঙ্খল, নিজস্ব সেনাবাহিনী, শিক্ষা ও রত্নবাণিজ্যে সমৃদ্ধ।
রানী রুদ্রমালা ছিলেন বিধবা —
রাজা মৃত্যুর পর কেউ বিশ্বাস করত না এক নারী রাজ্য চালাতে পারবে।
কিন্তু তিনি প্রমাণ করেন —
রাজ্য রক্ষা হয় কেবল তরবারি দিয়ে নয়, বুদ্ধি, আস্থা আর হৃদয় দিয়েও।
অধ্যায় ২: তিব্বতী হুমকি ও গুপ্ত রাস্তা
৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ।
তিব্বতের এক শাসক গার পুংচোক বিষ্ণুগড় দখলের পরিকল্পনা করেন।
কারণ এ রাজ্যের মধ্য দিয়ে “বিষ্ণুপথ” নামে একটি গোপন রাস্তা চীনের দিকে যেত —
যার নিয়ন্ত্রণ মানেই বাণিজ্য ও সেনাবাহিনীর প্রবেশাধিকার।
এই রাস্তা পাহাড়ের গায়ের নিচ দিয়ে চলেছে —
যেখানে গুহা, সুরঙ্গ আর গোপন দরজা ছিল।
এই বিষ্ণুপথ ছিল বিষ্ণুগড়ের মূল অস্ত্র।
অধ্যায় ৩: যুদ্ধের প্রস্তুতি ও বিশ্বাসঘাতক
রানী রুদ্রমালা জানতেন, শত্রুরা সংখ্যায় অনেক।
তাঁর কৌশল ছিল “যুদ্ধ নয়, প্রলম্বন”।
তিনি পাহাড়ের গুহাগুলোতে খাবার, অস্ত্র, গোপন ঘাঁটি তৈরি করেন।
কিন্তু তখনই ধরা পড়ে রাজ্যের একজন সেনাপতি ব্রহ্মদেব শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
রানী বলেন:
"যুদ্ধের আগে সবচেয়ে বড় শত্রু হয় নিজের ভিতরে। একে নির্মূল না করলে বাহিরের শত্রু জয় হবে না।"
অধ্যায় ৪: ছায়া যুদ্ধ শুরু
শত্রুরা যখন মূল গেট আক্রমণ করে,
রানী তখন সেনাবাহিনী ভাগ করে দেয় —
কিছু সামনে যুদ্ধ করে, বাকিরা বিষ্ণুপথ ধরে পিছন থেকে আক্রমণ করে।
পাহাড়ি মেয়েরা তখন ঢিল, আগুন ও গরম তেল দিয়ে পাহাড় চূড়া থেকে আক্রমণ করে।
শত্রুরা বুঝে যায়, এ যুদ্ধ সহজ নয়।
অধ্যায় ৫: আগুনের রাত
এক রাতে শত্রুরা বিষ্ণুপথের গোপন দরজা খুঁজে পায়।
তারা প্রবেশ করে সুরঙ্গে।
রানী বুঝতে পারেন, এবার রাজ্য পতনের আশঙ্কা।
তিনি সিদ্ধান্ত নেন — নিজেই বিষ্ণুপথে ঢুকে, শত্রুর মুখোমুখি হবেন।
রানী রুদ্রমালা তখন তার ছোট সেনাদল নিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হন গুহার ভেতর।
যুদ্ধ চলে পুরো রাত।
তিনি নিজ হাতে হত্যা করেন গার পুংচোক-কে।
অধ্যায় ৬: বিষ্ণুপথ বন্ধ ও রানীর প্রস্থান
যুদ্ধ জয়ের পর রানী ঘোষণা করেন:
"এই রাস্তা আর কেউ ব্যবহার করবে না। যে পথ রক্ত দেখেছে, সে আর কখনো স্বাধীনতা আনতে পারে না।"
তিনি নিজ হাতে গুহা বন্ধ করেন।
তারপর গোপনে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন, পাহাড়ের উপরে একটি ধ্যানকক্ষে জীবন কাটিয়ে দেন।
লোকেরা তাঁকে “ছায়ার রানী” বলে ডাকত।
উপসংহার: পাহাড়ের গান এখনো বলে
আজ বিষ্ণুগড় নেই, বিষ্ণুপথও চাপা পড়ে গেছে পাহাড়ের নিচে।
কিন্তু বর্ষার রাতে পাহাড়ের বাতাসে একটি গান ভেসে আসে:
"এক রানী পাহাড়কে বাঁচাতে, বিষ্ণুর পথে পা রেখেছিল।
সে ফিরেও এল না, রাজ্য রইল, কিন্তু হৃদয় হারিয়ে গেল গুহার ভিতর।"
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment