Featured
- Get link
- X
- Other Apps
কাশ্মীরী বৈদ্য ও বঙ্গনারীর বন্ধন
🌿 কাশ্মীরী বৈদ্য ও বঙ্গনারীর বন্ধন
(ঔষধ, প্রেম, ধর্মীয় বিভাজন ও স্মৃতির মধ্যে এক ইতিহাস গাঁথা)
🪶 ভূমিকা: ইতিহাস শুধু রাজাদের নয়, নিরীহ মানুষেরও
খ্রিস্টীয় ১১শ শতক।
বাংলা তখন পাল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত,
আর কাশ্মীর ছিল হিন্দু শৈব ও বৌদ্ধ মতবাদের কেন্দ্রস্থল।
সেই সময়, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিদ্যায় পারদর্শী এক তরুণ কাশ্মীরী বৈদ্য আসেন বাংলায়,
যেখানে তিনি খুঁজে পান শুধুই রোগ নয় — প্রেম, ধর্মীয় দ্বন্দ্ব এবং আত্মত্যাগের গভীর এক পথ।
অধ্যায় ১: বৈদ্যের আগমন
তাঁর নাম ছিল বৈদ্য শ্রীবত্স কাশ্যপ।
কাশ্মীরের পাম্পোর থেকে নালন্দা হয়ে বাংলার বিক্রমপুরে আসেন,
যেখানে তখন পঞ্চবটী গ্রামে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজা রামপাল তাঁকে পাঠিয়েছেন বিশেষ অনুরোধে।
কিন্তু গ্রামে পৌঁছে তিনি দেখেন, সবাই তাঁকে বহিরাগত মনে করছে।
তাঁর ভাষা ভিন্ন, পোশাক ভিন্ন, মুখে কাশ্মীরি টুপি —
তবুও কেউ একজন ছিলেন যিনি তাঁকে স্বাগত জানালেন।
অধ্যায় ২: সেই বঙ্গনারী — পদ্মাবতী
পদ্মাবতী ছিলেন বিধবা, এক কৃষকের মেয়ে।
তাঁর বাবা গ্রামের মন্দিরের পুরোহিত ছিলেন।
তিনি ছিলেন দয়ালু, সাহসী এবং জ্ঞানপিপাসু।
তিনি বৈদ্য শ্রীবত্স-কে গ্রামের ভিতরে থাকার ব্যবস্থা করে দেন,
প্রথম রোগী হিসেবেও তাঁর মা-কে নিয়ে আসেন।
তাঁদের বন্ধন শুরু হয় “ঔষধের স্পর্শে”,
কিন্তু ধীরে ধীরে তা অলিখিত ভালোবাসার দিকে এগিয়ে যায়।
অধ্যায় ৩: সংস্কৃতি ও ধর্মের দ্বন্দ্ব
পদ্মাবতী বাঙালি, শাক্ত মতের অনুসারী।
আর শ্রীবত্স ছিলেন কাশ্মীরি শৈব —
তাঁর ভগবান মহাদেব, পদ্মাবতীর মা পূজেন মা কালী।
এই দ্বন্দ্ব স্থানীয় ব্রাহ্মণদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করে।
গ্রামে গুজব ছড়ায়:
“বৈদ্য বিধবার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন — একে চিকিৎসা নয়, কলঙ্ক বলা হয়।”
অধ্যায় ৪: রোগের মহামারী ও হৃদয়ের সঙ্কট
এর মধ্যেই ভয়ানক মহামারী ছড়িয়ে পড়ে।
শিশু, বৃদ্ধ, গরিব, ধনী — কেউ রেহাই পায় না।
শ্রীবত্স দিনরাত কাজ করেন —
গাছ থেকে পাতা কেটে, পদ্মাবতীকে দিয়ে রস তৈরি করান,
সন্ধ্যায় দুজনে মিলে আগুন জ্বেলে ওষুধ তৈরি করেন।
তবে পদ্মাবতীর মা আক্রান্ত হন —
এবং তাঁর চিকিৎসা করতে গিয়ে শ্রীবত্স নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অধ্যায় ৫: আত্মত্যাগ ও চূড়ান্ত সংক্রমণ
যেদিন গ্রামের প্রধান এসে বলে:
"তোমার কারণেই ঈশ্বর আমাদের শাস্তি দিয়েছেন। তুমি আমাদের গ্রামের কলঙ্ক!"
সেদিন শ্রীবত্স কোনো উত্তর দেন না।
তবে রাতেই পদ্মাবতী তাকে একটি পুঁথি দিয়ে বলেন:
“এইটুকু রেখে যেয়ো, যাতে বাংলার মানুষ জানে, এক কাশ্মীরি বৈদ্য তাদের প্রাণ বাঁচাতে এসেছিলেন।”
পরদিন সকালে শ্রীবত্স নিখোঁজ।
লোকেরা বলে, তিনি নিজেই গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
অধ্যায় ৬: পদ্মাবতীর প্রতিজ্ঞা
পদ্মাবতী সব ছেড়ে এক গুহায় চলে যান।
তিনি নিজের হাতে ওষুধ তৈরি করেন, মানুষ সারান,
এবং শ্রীবত্স-এর নামে একটি পুঁথি লেখেন:
"কাশ্যপচরিত" — যেখানে তিনি তাঁদের জীবনের কথা লিখে রাখেন।
এখনো কেউ কেউ বলে,
শীতকালে পদ্মাবতীর গুহার ধারে গন্ধ আসে গন্ধক, চন্দন আর অশ্রুর।
উপসংহার: ইতিহাস শুধু বিজয়ের নয়
আজ এই গল্প নেই কোনো ইতিহাস বইয়ে।
কিন্তু পদ্মাবতীর হাতে লেখা সেই পুঁথি —
বর্তমানে আছে কলকাতার এক ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায়।
তাতে লেখা শেষ লাইনে বলা আছে:
"সে কাশ্মীর থেকে এসেছিল রোগ সারাতে, আমি হৃদয় দিয়েছিলাম।
চিকিৎসা হয়তো সে শেষ করতে পারেনি, কিন্তু ভালোবাসার নাম সে শিখিয়ে গেছে — নির্ভয়তা।”
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment