Featured
- Get link
- X
- Other Apps
ঘুঙুরের শব্দে হেঁটে যাওয়া
ধরন: সামাজিক-আবেগময়
শব্দ সংখ্যা:১৫০০
মূল থিম: সমাজের চোখে পতিতা, নিজের চোখে মানুষ
১. মঞ্চের আলো
তামান্না দাঁড়িয়ে আছে মঞ্চের ঠিক পেছনে। গোলাপি শাড়ির আঁচলটা একটু উঁচু করে কোমরে গুঁজে নেয়। আলোর নিচে নামলেই তার শরীরের প্রতিটি ভাঁজ চোখে পড়বে— সেজন্য প্রস্তুত হতে হয়। তিন মিনিট পরেই নামবে স্টেজে। আজকের নাচ ‘ঠুমরি’। সবার মুখে একটাই কথা— **“তামান্না আসলেই শো হাউজফুল। তার ঘুঙুরের শব্দই যেন মুগ্ধতা।”**
কিন্তু কেউ জানে না, এই ঘুঙুর খুললে তার পা’দুটো কীভাবে ব্যথায় ফুলে যায়। কেউ বোঝে না, মেকআপের নিচে লুকিয়ে থাকে ক্লান্ত, চোখভরা বিষন্নতা।
২. তামান্না আসলে কে?
একটা সময় তার নাম ছিল— **মায়া আক্তার**। গাজীপুরের এক গরিব মাদরাসার শিক্ষকের মেয়ে। ক্লাস নাইনে পড়াকালীন এক আত্মীয় তাকে শহরে চাকরির প্রলোভনে এনে বিক্রি করে দেয় এক খদ্দরের কাছে। তিন বছর বয়সে মা হারিয়েছিল, আর ষোল বছর বয়সে নিজের শরীর।
শুরুতে কেঁদেছিল। তারপর অভ্যস্ত হয়েছিল। তারপর নিজেই রং করতে শিখেছিল ঠোঁট, সাজতে শিখেছিল আয়নার সামনে।
৩. রাহাত নামে এক ছেলেটি**
তামান্না মাঝে মাঝে এক মুচির দোকানে বসে চা খেত। দোকানটা একটু ভেতরে, নিরিবিলি। সেইখানেই প্রথম দেখা রাহাতের সাথে। সাদা শার্ট, কাঁচা ঘামে ভেজা কপাল, হাতে কিছু পুরনো বই।
– “আপু, আপনি নাটকে কাজ করেন?” – “হুম, তেমনই কিছু…” – “আপনার ঘুঙুরের আওয়াজ আমি প্রায়ই শুনি। খুব ভালো লাগে।”
তামান্না অবাক হয়েছিল— কেউ তার শরীরের দিকে না তাকিয়ে শুধুমাত্র ঘুঙুর শুনে কথা বলছে?
সেই শুরু। আস্তে আস্তে রাহাত প্রতিদিন আসতো, চা খেত, গল্প করতো। সে জানতো না, তামান্না কে। বা, হয়তো জানতেও চায়নি।
৪. সামাজিক পরিচয় বনাম নিজের পরিচয়**
একদিন তামান্না সরাসরি বলেই ফেললো— “রাহাত, আমি একজন নর্তকী নই, আমি একজন পতিতা।” রাহাত চুপ। মাথা নিচু করে শুধু বললো, “আপনি একজন মানুষ। এই শহরে সেটা অনেক বড় পরিচয়।”
সেদিন তামান্না কান্না চেপে রেখেছিল।
৫. ঘুঙুর খুলে ফেলা**
তামান্না একদিন মঞ্চে ওঠেনি। বুকের ভিতর যেন শব্দ করছিলো— **“আর কত? কাকে দেখিয়ে? আর কত নাচবো নিজেকে লুকিয়ে?”**
তামান্না সেই রাতেই চলে গিয়েছিল রাহাতের কাছে। বলেছিল, “আমার ঘুঙুর ফেলে এসেছি। তুমি যদি চাও, আমি একজন নতুন মায়া হয়ে উঠতে পারি।”
রাহাত চুপচাপ তার হাত ধরেছিল।
৬. শেষ টুকরো**
দশ বছর কেটে গেছে। আজ মায়া একটা ছোট স্কুল চালায় রাহাতের সাথে। শিশুদের নাচ শেখায়। সেখানে নামী বাবুরা আসে না, বুক চেপে তাকায় না কেউ। সেখানে শুধু বাচ্চারা হাসে, ঘুঙুর পরে আনন্দে নাচে।
মায়ার ঘরে আজও একটা ঘুঙুর আছে, সযত্নে রাখা।
সে আর পরেনা। শুধু মাঝে মাঝে তুলে নেয়, চোখ বুজে শোনে সেই পুরনো শব্দ। আর ভাবে— **"একটা সময় ছিল, আমি মানুষ ছিলাম না। এখন আছি। আর কেউ না বুঝলেও আমি নিজেকে বুঝি।
👉 গল্পটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভুলবে না।
📝 তুমি চাইলে তোমার বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প আমাদের EditorPosts ব্লগে পাঠাতে পারো — মন্তব্য করে জানাও।
📌 আরও এমন গল্প পড়তে আমাদের ব্লগটি বুকমার্ক করে রাখো: [EditorPosts](https://editorposts.blogspot.com)
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment