Featured
- Get link
- X
- Other Apps
রক্তের তালপাতা: তাম্রচূড়া মঠের রহস্যময় পুঁথির গল্প
📖 রক্তের তালপাতা
(এক প্রাচীন গ্রন্থাগার, এক ভিক্ষুর দুঃসাহসিকতা, আর ইতিহাসের এক ভয়ঙ্কর অধ্যায়)
🪶 ভূমিকা: ইতিহাস যে কেবল লেখা হয় কালি দিয়ে, তা নয়
বাঙলার প্রাচীন গ্রন্থাগারগুলোর বেশিরভাগই আজ ধ্বংস।
কিন্তু কেউ জানে না, কত তালপাতার পুঁথি লুকিয়ে আছে এমন গোপন বার্তা, যা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এমনই এক পুঁথির অভিশপ্ত ইতিহাস লুকিয়ে ছিল জগদ্বিখ্যাত “তাম্রচূড়া মঠের” দেয়ালে।
আর যিনি তা আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি এক নিরীহ ভিক্ষু — নাম দেবরক্ষিত।
অধ্যায় ১: তাম্রচূড়া মঠের ছায়া
তাম্রচূড়া ছিল এক বিশাল বৌদ্ধবিহার — খ্রিস্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে এটি জ্ঞান, তন্ত্র ও গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র ছিল।
রাজা ধর্মবর্মা এটি প্রতিষ্ঠা করেন, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই এখানে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে।
বলা হতো, গ্রন্থাগারের একটি ঘর চিরকাল বন্ধ রাখা হয়েছে।
কারণ, সেখানে একটি তালপাতার পুঁথি আছে যা "রক্তে লেখা" —
আর যে-ই পড়বে, সে হয় পাগল হবে, নয়তো মারা যাবে।
অধ্যায় ২: দেবরক্ষিত — এক ভিক্ষুর নিঃসঙ্গ অনুসন্ধান
দেবরক্ষিত ছিলেন মাত্র ২৫ বছরের তরুণ ভিক্ষু।
অত্যন্ত মেধাবী, সাহসী, কিন্তু অন্য সবার মতো অন্ধবিশ্বাসে বিশ্বাস করতেন না।
তিনি প্রশ্ন করতেন:
"কেন কোনো গ্রন্থকে ভয় পেতে হবে?"
তার ধারণা ছিল —
এই পুঁথির ভেতরে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র লুকানো আছে।
কোনো ইতিহাস যা কেউ প্রকাশ করতে চায়নি।
অধ্যায় ৩: নিশীথে তালা ভাঙা
এক রাতে দেবরক্ষিত চুপিচুপি প্রবেশ করেন সেই “নিষিদ্ধ কক্ষে”।
হাতের প্রদীপের আলোয় পুরনো ধুলো আর কাকের হাড় দেখা যায়।
মেঝেতে পড়ে থাকা একটি পুঁথি তুলে নেন —
তালপাতা লালচে, যেন রক্তের ছোপ লেগে আছে।
প্রথম পাতায় লেখা এক সংকেতময় বাক্য:
"রাজাকে হত্যা করো, ইতিহাসকে বাঁচাও।"
অধ্যায় ৪: পুঁথির অভিশাপ নাকি সত্য?
এরপরই শুরু হয় দেবরক্ষিতের বিভ্রম।
তিনি দিনরাত ওই পুঁথি পড়েন।
প্রতিটি পাতায় গোপন ভাষা, সংকেত, নাম, স্থানের মানচিত্র।
তিনি আবিষ্কার করেন —
রাজা ধর্মবর্মা প্রকৃতপক্ষে তন্ত্রমন্ত্র ও হত্যার মাধ্যমে সিংহাসনে এসেছিলেন।
তিনি নিজের ভাই ও গুরুদের হত্যা করে তৈরি করেন এই বিহার।
আর সেই তথ্য প্রকাশ পেলে পাল সাম্রাজ্য ভেঙে পড়বে।
অধ্যায় ৫: মঠে আগুন ও বিশ্বাসঘাতকতা
দেবরক্ষিত সিদ্ধান্ত নেন, এই সত্য প্রকাশ করবেন।
কিন্তু গোপনে মঠের অধিনায়ক বাল্মীকি ঠাকুর এই পুঁথির অস্তিত্ব টের পেয়ে যান।
তিনি রাজদরবারে খবর পাঠান।
এক রাতে মঠে আগুন লাগে।
দেবরক্ষিত পালিয়ে বাঁচেন, কিন্তু বাকিরা মারা যায়।
পুঁথি তখন দেবরক্ষিতের হাতে।
তিনি যান পাহাড়ি গ্রামের গুহায়, যেখানে শুরু হয় তাঁর আত্মগোপন।
অধ্যায় ৬: নতুন নাম, নতুন পরিচয়
দেবরক্ষিত নিজের নাম বদলে নেন — "অগ্নিবর্মা"।
তিনি নতুন করে পুঁথি অনুবাদ করেন, এবং অন্য ভিক্ষুদের গোপনে প্রশিক্ষণ দেন।
তাঁদেরকে বলেন:
"এই গ্রন্থ শুধু ইতিহাস নয়, এইটা মুক্তির রাস্তা।
সত্যকে ঢাকলে রাজ্য থাকে না, শুধু মিথ্যার মূর্তি দাঁড়িয়ে থাকে।"
তাঁর তৈরি করা গোপন সঙ্ঘ ছড়িয়ে পড়ে ৭টি গ্রামে।
অধ্যায় ৭: পুঁথির প্রতিশোধ
শেষ বয়সে অগ্নিবর্মা একটি অনন্য কাজ করেন।
তিনি পুঁথির শেষ পাতায় রক্ত দিয়ে লেখেন:
"সত্য জানো, ভয় পেও না। কিন্তু প্রস্তুত থেকো, কারণ মিথ্যা কখনো একা আসে না।"
এরপর এক রাতে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
লোকেরা বলে, তিনি পুঁথির সাথে নিজেকে পুড়িয়ে ফেলেছিলেন।
উপসংহার: তালপাতার ফিসফাস
তাম্রচূড়া আজ শুধুই ধ্বংসাবশেষ।
কিন্তু সন্ধ্যায় কেউ কেউ বলে, পাথরের ফাঁকে আজও শুনতে পাওয়া যায় ফিসফাস:
"রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাস মুছে ফেলো না।
কারণ ইতিহাসের অভিশাপ শুধু আগুন নয়, স্মৃতির অন্ধকার।”
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment