Featured
- Get link
- X
- Other Apps
পাথরের রানী: সোমপুর মহাবিহারের হারানো কাহিনি
🪶 ভূমিকা: মাটি যেখানে ইতিহাস গোপন করে
পাহাড়পুর। আজকের নাম শুনলেই মনে হয় পুরাতন কোনো বৌদ্ধবিহার। কিন্তু প্রায় ১২০০ বছর আগে, এই ভূমি ছিল এক অসম্ভব জ্ঞান, শক্তি আর রাজনীতির কেন্দ্র। এই পাহাড়পুরেই একদিন দাঁড়িয়ে ছিল **সোমপুর মহাবিহার** — পাল রাজাদের তৈরী করা বৌদ্ধ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিদ্যাপীঠ।
এই গল্প সেই বিহারের ভিতরকার এক গোপন ইতিহাসের, একজন রাণী, এক ভিক্ষু, এক পাথরের মূর্তি — আর একটি প্রশ্ন: **মূর্তি কি কখনো কথা বলে?**
## অধ্যায় ১: নদীর ধারে ধূলিভরা গ্রন্থ
১০৭৩ খ্রিস্টাব্দ। গঙ্গা-যমুনার মোহনায় প্রবাহমান এক অচেনা গ্রাম। সেখানকার একটি পুরাতন লাইব্রেরি ঘাঁটতে গিয়ে তরুণ ভিক্ষু **আনন্দপ্রিয়** খুঁজে পায় এক তালপাতার পুঁথি, যার লেখা অধিকাংশই ক্ষয়ে গেছে।
তবে শেষ পাতায় লেখা:
**"পাথরের মূর্তি শুধু নিস্তব্ধ নয়। সে অপেক্ষা করে—প্রিয়তম ফেরার।"**
এই বাক্য আনন্দপ্রিয়কে পাগলের মতো টানে সোমপুর মহাবিহারে।
## অধ্যায় ২: ক্ত প্রায়। পাল রাজবংশের পতনের পর কেউ সেভাবে দেখাশোনা করে না। তবু সন্ধ্যায় সেখানে বাতাসে ভেসে আসে ধূপগন্ধ, দেয়ালের ফাটলে পাথরের ফিসফাস।
আনন্দপ্রিয় বুঝতে পারে, এখানে শুধু ইট নয় — লুকানো আছে এক **রাণীর আত্মা**।
## অধ্যায় ৩: পাথরের চোখে আলোর ঝলকানি
বিহারের মূল গর্ভগৃহে সে দেখতে পেল একটি মূর্তি — কোনো দেবীর নয়, কোনো ধর্মগুরুরও নয়। বরং এক নারী, হাতে পদ্ম, চোখে বিষাদ।
রাত্রি ১২টা। মূর্তির চোখে এক অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে।
আনন্দপ্রিয় ভয়ে দৌড়ায়, কিন্তু তারপর ফিরে আসে — কারণ তার হৃদয়ের গভীরে বাজে সেই শব্দ: **"আমি বিশালা। আমি পাথরের রানী।"**
## অধ্যায় ৪: বিশালার কাহিনি
মূর্তি কথা বলে না, কিন্তু আনন্দপ্রিয় বুঝতে শিখে গেছে — ঘুমের মধ্যে সে দেখতে পায় বিশালার স্মৃতি।
বিশালা ছিলেন পাল রাজার স্ত্রী। রাজা ধর্মপালের দ্বিতীয় রাণী। তিনি ছিলেন এক ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে — রাজনীতির কারণে রাজপ্রাসাদে স্থান পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন সাহসী, তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কসম্পন্ন, কাব্যে ও সংগীতে পারদর্শী।
রাজা তাঁকে ভালোবাসতেন, কিন্তু রাজসভার অন্যরানীরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন তাঁর প্রভাব দেখে। একদিন রাজপ্রাসাদে ষড়যন্ত্র হয়।
বিশালাকে বিষ দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা হয়।
## অধ্যায় ৫: আত্মাহুতি ও পাথরের বন্দিত্ব
বিশালা বুঝতে পারেন, মৃত্যু আসন্ন। তিনি তার আত্মীয়দের চিঠি লেখেন না। তিনি যান সোমপুর বিহারে, তাঁর শেষ রাত্রি কাটাতে।
সেখানে তিনি এক প্রাচীন বৌদ্ধ সাধকের কাছে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন — **“যদি আমার দেহ মরে, আমার স্মৃতি যেন পাথরে রয়ে যায়। আমার অপেক্ষা যেন শেষ না হয়।”**
সেই সাধক এক তন্ত্র-মন্ত্রপূর্বক তাঁর আত্মাকে বন্দি করেন এক মূর্তিতে। আর রাজসভা নিশ্চিত হয় — বিশালা পালিয়ে গেছে।
সেই দিন থেকে সোমপুরের গভীরে দাঁড়িয়ে আছে এক মূর্তি, যার চোখে কোনো প্রাণ নেই, কিন্তু রাতের নির্জনতায় সে জেগে ওঠে।
## অধ্যায় ৬: আনন্দপ্রিয়ের সিদ্ধান্ত
আনন্দপ্রিয় রাত্রে মূর্তির সামনে বসে ধ্যান করে। সপ্তাহ চলে যায়। সে শুনতে পায় বিশালার কণ্ঠ — **"আমি মুক্তি চাই না। আমি শুধু চেয়েছি কেউ আমার গল্প জানুক।"**
ভিক্ষু আনন্দপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেয়: সে লিখে যাবে বিশালার জীবনকাহিনী। সে যেখানেই যাবে, সে বিশালার কথা বলবে।
সে পাথরের রাণীকে মানুষের মনের রাণী করে তুলবে।
## অধ্যায় ৭: ইতিহাস ফিরে দেখার আহ্বান
সেই আনন্দপ্রিয়-রচনাই হয়তো ছড়িয়ে পড়ে লোককথায়। কেউ বলেন, পাথরের চোখে সত্যি দেখা যায় জ্যোতির্ময় আলো। কেউ বলেন, রাতে গম্ভীর ঘরে ফিসফিসিয়ে বলে কেউ — “বিশালা”।
পাহাড়পুর আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত, কিন্তু প্রতি বছর বহু মানুষ আসে সেই মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে। তারা জানে না, সেই পাথর কোনো দেবতা নয়।
সে একজন মানুষ। একজন নারী। যার আত্মা ভালোবাসা চেয়েছিল, আর পেয়েছিল পাথরের নিঃসঙ্গতা।
## উপসংহার: পাথরের গল্পে মানুষ খুঁজে নেওয়া
**পাথরের রানী** শুধু গল্প নয়। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় — প্রাচীন বাংলার গৌরবের সাথে সাথে হারিয়ে যাওয়া অজানা নারীকণ্ঠগুলোকে।
সেই সময়, যেখানে নারী কণ্ঠ রুদ্ধ করা হতো, তাদের কেউ কেউ নিজের আত্মাকেই পাথরে রূপান্তর করে দিয়ে গেছেন, যেন একদিন কেউ এসে শুনে নেয় সেই ইতিহাস।
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps
Comments
Post a Comment