Skip to main content

Featured

Top 10 High-Income Skills You Can Learn Online in 2025 (Ultimate Guide)

  Top 10 High-Income Skills You Can Learn Online in 2025 (Ultimate Guide) In today's fast-paced digital world, having high-income skills can change your life completely. Whether you're a student, a freelancer, or someone looking to switch careers, learning in-demand skills online is easier than ever. In this article, we’ll explore the top 10 high-income skills you can learn online in 2025 , how to learn them, potential earnings, and career paths. 🔥 Why High-Income Skills Matter in 2025 With the rise of AI, automation, and remote work, traditional degrees are no longer enough. Companies now value skills over certificates . High-income skills give you the flexibility to work globally, earn in dollars, and live a financially independent life. Some key benefits include: Work from anywhere (remote jobs or freelancing) Start your own business or agency Increase earning potential More job opportunities globally ✅ Top 10 High-Income Skills to Learn in 2025 1. AI &...

ছায়ার নদী : একটি ভালোবাসা, সংগ্রাম ও মুক্তির উপাখ্যান

লেখক:মাসুম 
ব্লগ:EditorPosts

A Heartfelt Bengali Story of Love, Betrayal, and New Beginnings


অধ্যায় ১:ছায়ার পাড়ে

শীতের সকাল। চারদিক ঘেরা কুয়াশা,কেবল নদীর পাড়টুকু ধরা পড়ে চোখে। এই নদীটির নাম ‘ছায়া’, যদিও নামটা বাস্তবে কোনো ম্যাপে নেই। এটা যেন একটা গোপন নদী—খুব চুপচাপ, গহীন সবুজের ছায়ায় ঢাকা, যেখানে কেবল মনখারাপেরা এসে আশ্রয় নেয়।

নদীর পাড়েই এক ছোট্ট গ্রাম, নাম 'নতুনপুর'। নতুনপুরের ঘরবাড়ি গুটি কয়েক, মানুষও নিরীহ। এখানে বাস করে একজন তরুণী—মায়া। নামের মতোই শান্ত, ধীর আর গভীর। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর থেকেই নদীর পাড়ে ছোট একটা কুঁড়েঘরে থাকে সে। মাছ ধরে, গল্প লেখে আর মাঝে মাঝে স্কুলের বাচ্চাদের পড়ায়।

মায়ার জীবনে কোনো তাড়াহুড়ো নেই, কিন্তু মনটা বড়ই একা। তার দিন কাটে নদীর জলে পা ভিজিয়ে কিংবা পুরোনো ডায়েরির পাতায় ছেঁড়া স্বপ্ন আঁকতে আঁকতে।

একদিন হঠাৎ করেই সেই নদীর পাড়ে দেখা হয় এক অচেনা ছেলের সঙ্গে। তার চোখে ছিলো ঝড়, কণ্ঠে ছিলো যন্ত্রণা। ছেলেটির নাম রাহুল। শহর থেকে এসেছে, কিন্তু মুখে শহুরে কোনো অহংকার নেই। মায়ার চোখে সে যেন এক রহস্য, এক অজানা যাত্রার যাত্রী।

— “তুমি এখানে কেন?”
— “নিজেকে খুঁজতে এসেছি,”—রাহুলের উত্তর ছিলো সংক্ষিপ্ত, তবু ভরপুর ভারে।

মায়া জানতো, এই নদী শুধু জল নয়, এটা একটা পথ—ভালোবাসার পথ, মুক্তির পথ।


অধ্যায় ২: কথার নদী

পরদিন সকালেও রাহুল ছিলো নদীর পাড়ে। হাতে একটা পুরোনো খাতা। খোলার পর দেখা গেল, তাতে অগোছালো কিছু কবিতা, কিছু চিঠি আর অসমাপ্ত কিছু গল্প।

মায়া একটু দূরে বসে বললো, “তুমি লিখো?”
রাহুল হাসলো, “হ্যাঁ। কখনো মন ভালো থাকলে লিখি। আর বেশি কষ্ট পেলে পুড়িয়ে ফেলি।”

— “তাহলে এত কষ্ট জমেছে যে তুমি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছো?”
— “হয়তো। বা হারিয়ে গিয়েই বাঁচতে শিখছি।”

তাদের মধ্যে কথোপকথন চলতে থাকলো। প্রতিটি শব্দ যেন আরেকটু করে কাছে টানছিলো দুজনকে। নদীর ঢেউয়ের মতো ধীরে ধীরে তাদের নিঃশব্দ ভালোবাসা গড়ে উঠছিলো।

মায়া জানে না সে কবে এত কথা বলেছে কারো সঙ্গে। রাহুলও অবাক, এই অচেনা গ্রামে একটা মেয়ের চোখে কীভাবে এতখানি শান্তি লুকানো থাকে!


অধ্যায় ৩: অতীতের আঁচড়

রাহুল একদিন সন্ধ্যায় এসে বসলো মায়ার পাশে। বললো, “তুমি জানো, আমি একটা ভুলের জন্যই সব ছেড়ে এসেছি। শহরের চাকচিক্য, কর্পোরেট জীবন, সম্পর্ক—সব ছিলো। কিন্তু বিশ্বাস ছিলো না।”

রাহুল একসময় একটা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। প্রেম ছিলো তার সহকর্মী নেহার সঙ্গে। ভালোবাসা শুরু হয়েছিল, কিন্তু শেষ হয়েছিল বিশ্বাসঘাতকতায়। নেহা নিজের স্বার্থে রাহুলকে ব্যবহার করে তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

সব ছেড়ে রাহুল পাহাড়, নদী, প্রকৃতি খুঁজতে থাকে। যেন নিজেকে খুঁজে পায়। তখনই সে এসে পড়ে এই নতুনপুর গ্রামে।

মায়া নিঃশব্দে শোনে। তার নিজের জীবনেও আছে কষ্ট। মা-বাবা মরে গেছে তার চোখের সামনে। সে তখন খুব ছোট, কিন্তু সেই ভয়াবহতা তার মধ্যে গভীর দাগ কেটে গেছে।

দুজনের ব্যথা যেন ধীরে ধীরে জোড়া লাগছিলো একটাই জিনিসে—মানুষের প্রতি একটুখানি মায়া।


অধ্যায় ৪: একসাথে

দিনগুলো চলতে থাকলো। রাহুল আর মায়া একসঙ্গে মাছ ধরতে যায়, একসাথে বসে লেখে, গল্প বানায়। তারা বুঝে যায়, কিছু সম্পর্কের নাম দেওয়া যায় না, শুধু অনুভব করা যায়।

একদিন মায়া বলে, “তুমি কি ফিরে যাবে শহরে?”
রাহুল বলে, “যদি যাইও, তোমার ছায়া আমাকে সবসময় টেনে আনবে।”

মায়ার চোখে জল। এতদিন পরে কেউ এমনভাবে বললো যে, সে থাকুক বা না থাকুক—তবুও তার অস্তিত্ব থাকবে কারও ভেতরে।

সেই রাতেই মায়া একটা নতুন গল্প লেখে—নাম দেয় “ছায়ার নদী”।


অধ্যায় ৫: প্রলোভন

একদিন হঠাৎ রাহুলের ফোনে আসে একটা কল। শহরের এক প্রকাশনী তার পুরোনো কবিতাগুলো নিয়ে কাজ করতে চায়। অনেক বড় সুযোগ।

মায়া চুপচাপ শোনে। হাসে—ভালোবাসার হাসি, আবার ভেতরে কাঁপে।

— “তুমি কি যাবে?”
— “তোমাকে ফেলে যাওয়ার শক্তি নেই আমার,”—রাহুলের চোখে জল।

তবু বাস্তব কঠিন। দুদিন পর রাহুল শহরে চলে যায়। যাওয়ার আগে বলে, “তুমি লিখে যাও, আমি তোমার প্রতিটা শব্দ পড়বো, শুনবো, বাঁচবো।”


অধ্যায় ৬: ফিরে আসা

রাহুল শহরে গিয়েও প্রতিদিন লিখতো মায়াকে। কিন্তু মায়ার মনে ভয়, শহর তাকে কেড়ে নেবে।

একদিন, হঠাৎ মায়া নদীর পাড়ে দেখে রাহুল দাঁড়িয়ে আছে।

— “তুমি?”
— “তোমার ছায়া আমাকে শান্তি দেয়। আমি ফিরে এসেছি চিরদিনের জন্য।”


অধ্যায় ৭: ছায়ার নদীতে জীবন

রাহুল নতুনপুরে থেকেই লেখালেখি শুরু করে। মায়া ও সে মিলে গ্রামের শিশুদের জন্য একটা ছোট পাঠাগার বানায়। তাদের গল্প, কবিতা শহরের ম্যাগাজিনে ছাপা হয়।

‘ছায়ার নদী’ নামে এক যৌথ বই বের হয়। সেখানেই লেখা থাকে—

“ভালোবাসা মানেই একসঙ্গে থাকা নয়, বরং একে অপরকে এমনভাবে জড়িয়ে থাকা, যেন ছায়ার মতো পাশে থাকে—কখনও দূরে, কিন্তু হারায় না।”

এটাই ছিল মায়া আর রাহুলের গল্প—ছায়ার নদী, যেখানে ভালোবাসা ছিলো শব্দে, নীরবে, কিন্তু অমলিন।

গল্পটি মন ছুয়ে গেলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না!  

Comments