Featured
- Get link
- X
- Other Apps
দিনমজুর ইলিয়াসের গল্প – এক সংগ্রামী বাবার চোখে জীবনের আলো
লেখক : মাসুম
ব্লগ : EditorPost
পূর্ব পাড়ার ছোট্ট একটা ঘরে ইলিয়াস থাকে তার স্ত্রী রাশিদা আর একমাত্র মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে। ভোর হলেই সে ঘুম ভাঙে, কাঁধে কোদাল ফেলে বেরিয়ে পড়ে কাজের খোঁজে। শহরের একপাশে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের মাটির নীচে সে খেটে চলে – ইলিয়াস একজন দিনমজুর।
তার কপালের ঘামেই চলে ঘরের চুলা, মেয়ের স্কুল আর বউয়ের ওষুধ। কোনোদিন কাজ না পেলে, সেদিন ভাতের থালায় শুধু লবণ থাকে।
একদিন আয়েশা জ্বর নিয়ে শুয়ে পড়ল। ইলিয়াসের মনের ভেতরে এক চাপা আতঙ্ক জমে উঠল। ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, কিন্তু হাতে টাকা নেই। বিকেল অবধি কাজ করে মাত্র ৩০০ টাকা পেল সে। তাও আবার সেই টাকা থেকেও ৫০ টাকা মালিকের চায়ের দোকানে বাকি। বাকিটুকু নিয়ে ছুটল হসপিটালের দিকে।
ডাক্তার বলল, “ভয়ের কিছু নেই, তবে ইনজেকশন আর একটা রক্ত পরীক্ষা লাগবে।”
ইলিয়াস জানে, এই কথার মানে আরও ৫০০ টাকা লাগবে। সে মাথা নিচু করে বলল, “স্যার, আজ ২৫০ টাকা আছে। বাকি আমি কাল দেব, মেয়েটা আমার প্রাণ।”
ডাক্তার এক দম চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন, “ঠিক আছে। আপনি বসেন।”
তারপর নিজের টেবিল থেকে কিছু টাকা বের করে নার্সকে দিলেন, “বাকিটা আমি দিলাম। পরীক্ষা করে দেন।”
ইলিয়াস কেঁদে ফেলল—এ কেমন মমতা!
সেদিন বাড়ি ফিরে আয়েশার পাশে বসে বলেছিল, “বাবা বড় মানুষ না হলেও ভালো মানুষ হতে চায়।”
ইলিয়াসের স্বপ্ন
শুধু বেঁচে থাকা নয়, ইলিয়াস চায় আয়েশা একদিন ডাক্তার হোক। মানুষের পাশে দাঁড়াক। সেই ডাক্তারের মতো, যে টাকার অভাবে এক শিশুর চিকিৎসা ফিরিয়ে দেয় না।
আয়েশা লেখাপড়ায় খুব ভালো। স্কুলের সবাই বলে, মেয়েটার চোখে আগুন আছে। কিন্তু আগুন জ্বালানোর কাঠ কোথায়? বই কিনতে হয়, ফি দিতে হয়, আর ঘরে খাবারও তো লাগে।
ইলিয়াস দিনে ১০-১২ ঘণ্টা খাটে। কোনো উৎসব তার জন্য নয়, কোনো ছুটির দিন নেই। বৃষ্টিতে ভিজে কাজ, গরমে জ্বলতে জ্বলতে ইট টানা, কাঁধে বালি বহন—সবই সে হাসিমুখে করে।
কারণ একটাই—আয়েশার চোখে সে দেখেছে আলোর স্বপ্ন। সেই আলোয় সে নিজেকে জ্বালিয়ে দিতে রাজি।
একটা নতুন সকাল
একদিন স্কুল থেকে আয়েশার জন্য ডাক এলো। ইলিয়াস আর রাশিদা দৌড়ে গেলো সেখানে। প্রধান শিক্ষক জানালেন, “আয়েশা জেলা পর্যায়ে মেধা বৃত্তি পেয়েছে! সে ঢাকায় গিয়ে পড়তে পারবে। সম্পূর্ণ খরচ সরকার দেবে।”
রাশিদার চোখ ভিজে গেল, আর ইলিয়াস চুপচাপ মেয়ের মাথায় হাত রাখল। তার কণ্ঠে একটাই কথা—“আমার আয়েশা পারবে।”
শেষ অংশ: আলোর পথে
আজ ৮ বছর পর, ইলিয়াস সেই একই পাড়ায়, একই ঘরে। কিন্তু আয়েশা এখন ঢাকার বড় হাসপাতালের ইন্টার্ন ডাক্তার।
ইলিয়াস এখনও কোদাল কাঁধে করে বের হয়, তবে তার চোখে ক্লান্তি নেই—আছে এক অদ্ভুত প্রশান্তি।
কারণ সে জানে, তার মেয়ে মানুষের জন্য কাজ করবে। আর এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
"এই লেখাগুলো মূলত কল্পনাপ্রসূত এবং শুধুমাত্র পাঠকের অনুভূতি জাগানোর উদ্দেশ্যে।"
- Get link
- X
- Other Apps
Popular Posts
কাঁচের ভিতর, ক্যামেরার ফাঁদ — ঢাকার গাড়ির MMS কেলেঙ্কারি
- Get link
- X
- Other Apps

Comments
Post a Comment